সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৯৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তি উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কদমখাল গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে মকবুল (২০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য পাচার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ফেরীঘাট এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায় জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।
অভিযানকালে একটি মাদক চালান থেকে ১৯৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয় এবং মাদক ব্যবসায়ী মকবুলকে আটক করা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— জৈন্তাপুর ইউনিয়নের চাতলারপাড় গ্রামের আব্দুল জলিল ওরফে টুন্ডা জলিলের ছেলে আলমগীর হোসেন (২১), কেন্দ্রী ঝিঙ্গাবাড়ী (মিনাটিলা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন) এলাকার হাবিল মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ ওরফে আব্দুল মিয়া (১৮) এবং কেন্দ্রী গ্রামের রাকেশ (২০)। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মাদক ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামের মছদ্দর আলীর ছেলে আব্দুল করিম ওরফে বেন্ডিস করিম-এর নামও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর আটক মকবুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, “একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ১৯৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশের বিশেষ নজরে আসে। এরপর থেকেই জৈন্তাপুরসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক নির্মূলে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।