সিলেটে ছাত্রী সংস্থা নেত্রী নাদিয়া ফাতেমার বাসায় পুলিশি তল্লাশির কারণে চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। নাদিয়া ফাতেমাকে হাজির করার জন্য পরিবারের সদস্যদের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে শাহপরাণ থানা পুলিশ।
জানা যায়, নাদিয়া ফাতেমা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সিলেট মহানগরের ২২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ মামলায় তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালায়। জামায়াতে ইসলামী ও মহিলা জামায়াতের পক্ষে তিনি প্রায় সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করেন। জামায়াত পক্ষের একজন অনলাইন এক্টিভিষ্ট। নাদিয়া নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি করেন। সরকার গঠন করার পর বিএনপি সরকারের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী নিয়ে তিনি নিয়মিত ফেসবুকে লেখালেখি ও সভা এবং সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এগুলো দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার উপর ক্ষেপে যায়। তাকে দমন করার জন্য তার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা দেয়ার পরিকল্পনা করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাদের রোষানল থেকে তিনি কোনোভাবেই বাঁচতে পারছেন না।
ছাত্রী সংস্থা নেত্রী নাদিয়া ফাতেমার পরিবার জানান, ৯ আগস্ট রাত ১০টায় স্থানীয় বিএনপি’র কয়েকজন নেতা নাদিয়া ফাতেমার বাসায় শাহপরান থানার পুলিশ নিয়ে আসেন। পুলিশ বাসার পত্যেকটি কক্ষ তল্লাশি করে নাদিয়া ফাতেমাকে খোঁজে কিন্তু পায়নি। এক পর্যায়ে পুলিশ হুমকি দিয়ে বলে নাদিয়া ফাতেমাকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে থানায় হাজির না করলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।
এবিষয়ে নাদিয়া ফাতেমার মাতা বলেন, “আমার মেয়ের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা, ছাত্রী সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত এবং বিএনপি সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাদাবাজি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি ও প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা পুলিশ নিয়ে আমার বাসায় রাতে অভিযান চালায়। আমার মেয়েকে হাজির করার জন্য হুমকি দিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে আমরা আতংকের মধ্যে আছি। যেকোনো সময় তারা আমার মেয়েকে গ্রেফতার করতে পারে।
শাহপরান থানার ওসি খন্দকার মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নাদিয়া ফাতেমার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য বিভিন্ন সময় সমালোচনা করেন। সামান্য কিছু হলেই সে সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে। সরকারকে বিতর্কিত করতে চায়। এজন্য আমরা তাকে গ্রেফতার করতে চাচ্ছি।